শিশুই শুধু  নয়, স্তন্যপান করানো মায়ের জন্যও সমান জরুরি!

শিশুই শুধু নয়, স্তন্যপান করানো মায়ের জন্যও সমান জরুরি!

শিশুর জন্য তার মায়ের দুধ অমৃতের মতো। পৃথিবীর আলো দেখার পর প্রথম ৬ মাস মায়ের বুকের দুধই শিশুর জন্য সবথেকে ভালো। বুকের দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শিশুর ঘ্রাণশক্তি বাড়ায় ও স্বাদ বিচারের ক্ষমতাও তৈরি করে। মায়ের খাদ্যাভ্যাসে রদবদলের সাথে সাথে বুকের দুধের স্বাদের পরিবর্তন ঘটে, তাই শিশু একটু একটু করে নানারকম স্বাদের সাথে পরিচিত হতে পারে। মায়ের সাথে শিশুর সম্পর্ক নিবিড় করে এই স্তন্যপান করানো। মায়ের দেহের সংস্পর্শে এসে, মায়ের আদর ও নিজের পুষ্টি দুইই গ্রহণ করে শিশু, আর নিজের পরম নির্ভরতার জায়গাটিও খুঁজে পায়। শুধু কী বাচ্চা, বুকের দুধ বাচ্চাকে খাওয়ালে মাও নানা ভাবে উপকৃত হন। কীভাবে, জেনে নিন এখানে। Breast Feeding, Why it is necessary. Breastfeeding keno joruri. Breastfeeding keno koraben. Why breastfeeding is necessary both for mom and for child in Bangla.

বাচ্চার ওপর স্তন্যপানের প্রভাব (Why breastfeeding is necessary for babies in Bangla)

  • বাচ্চা জন্মানোর পর প্রথম ২-৩ দিন মায়ের বুকে শালদুধ বা কোলোস্ট্রাম তৈরি হয়। এই দুধ হলুদাভ, ঘন এবং আঠালো প্রকৃতির হয়ে থাকে। মায়ের বুকে প্রতিদিন ১৫-৩০ মিলিলিটার শালদুধ তৈরি হয়। এই দুধে শিশুর উপযোগী সব পুষ্টিগুণই আছে এবং এতে প্রচুর অ্যান্টিবডি থাকে, যা শিশুকে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। এই কারণে শালদুধকে বাচ্চার প্রথম টিকাও বলা হয়ে থাকে। সদ্যোজাত বাচ্চার জন্য এই দুধ খুবই পুষ্টিকর।
  • শালদুধ ল্যাক্সাটিভ হিসেবে কাজ করে। বাচ্চার পেটে যে কালো মল বা মিকোনিয়াম জমে থাকে, সেটি এই শালদুধের প্রভাবে সহজেই বাচ্চার শরীর থেকে বের হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, বাচ্চার জন্ডিস হওয়ার ভয় অনেকটাই কমে যায়।
  • বাচ্চার সঠিক ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে মায়ের দুধ। বুকের দুধ খুবই সহজপাচ্য এবং এতে সঠিক পরিমাণে ফ্যাট, ভিটামিন ও প্রোটিন থাকে। এছাড়াও বুকের দুধে উপস্থিত এনজাইম, লিউকোসাইট, অ্যান্টিবডি ইত্যাদি শিশুর শরীরের জন্য আদর্শ। আবার পরবর্তী কালে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনাও কমিয়ে দেয় এই বুকের দুধ।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকায় মায়ের দুধ খেলে শিশুর হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো হয়। এছাড়া যেসব বাচ্চা ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের দুধই খায় ,দেখা গেছে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ দ্রুত হয়। মায়ের দুধে উপস্থিত ডিএইচএ (DHA), বাচ্চার মস্তিস্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে থাকে ও বাচ্চা মেধাবী হয়।
  • বুকের দুধে উপস্থিত ফ্যাট শিশুর রেটিনা ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সাহায্য করে। ডিএইচএ (DHA) বাচ্চার দৃষ্টিশক্তি ভালো করতেও সাহায্য করে। বুকের দুধ অন্য সব ইনফেকশনের সাথে সাথে চোখের ইনফেকশন হওয়ার ধাতও কমিয়ে দেয়।বাচ্চা পর্যাপ্ত মায়ের দুধ খেলে পরবর্তী কালে চোখের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
  • অনেক সময় দেখা যায়, জন্মের এক বছরের মধ্যে শিশু হঠাৎ মারা যায়। দুর্ভাগ্যবশত, ময়নাতদন্তেও এর নির্দিষ্ট কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। শিশুর এভাবে মৃত্যুকে ‘Sudden Infant Death Syndrome’বা এস আই ডি এস বলে। সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, যে বুকের দুধ খাওয়া বাচ্চাদের এই অকালমৃত্যুর হার ৫০% পর্যন্ত কম।
  • মায়ের দুধে Secretory IgA নামক একটি রোগ প্রতিরোধক উপাদান বর্তমান যা বাচ্চাকে বিভিন্ন এলার্জির সমস্যা থেকে রক্ষা করে।
  • এছাড়াও যেসব বাচ্চা পর্যাপ্ত বুকের দুধ খায়, ভবিষ্যতে হার্ট বা লিভার জনিত সমস্যায় ভোগার আশঙ্কা তাদের কম হয়।

বাচ্চাকে স্তন্যপান করালে মায়ের যা উপকার হয় (Why breastfeeding is necessary for mothers?)

  • বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ালে ডেলিভারির পর মায়ের শরীর তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে।
  • প্রসবের পর মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় না।
  • বুকের দুধ খাওয়ালে যেহেতু প্রায় ৫০০ ক্যালোরি করে ফ্যাট পুড়ে যায়, তাই মা খুব তাড়াতাড়িই আগের চেহারা ফিরে পান বা অতিরিক্ত ওজন বাড়ার সমস্যায় ভোগেন না।
  • বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় অক্সিটোসিন নামের একটি হরমোন নিঃসরণ হয়, যা মাকে উদ্বেগ কম করতে এবং শিশুর সাথে নিবিড় সম্পর্ক তৈরিতে সাহায্য করে।
  • বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের পোস্টমেনোপজাল অস্টিওপোরোসিস (Postmenopausal Osteoporosis) হওয়ার ঝুঁকি কম হয় এবং হাড়ের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
  • বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ালে,মায়ের জরায়ু ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
  • ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
বাচ্চার সুস্বাস্থ্যের জন্য মায়ের বুকের দুধই শ্রেষ্ঠ, এ কথায় কারও কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়। বাচ্চার প্রয়োজন অনুযায়ী ও স্তন্যপান কতবার করানো হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে মায়ের দুধের পরিমাণ ও পুষ্টিগুণও পরিবর্তিত হতে থাকে। মায়ের দুধ খাওয়ানোর সবথেকে বড় সুবিধা হল, আপনি বাচ্চাকে যখন ইচ্ছে দুধ খাওয়াতে পারেন বা বাচ্চার খিদে পেলে তাকে অপেক্ষা করতে হয় না। আর, একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত এই মায়ের দুধই শিশুদের সবথেকে প্রিয় খাবার। মা হিসেবে আপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে আপনার ডায়েটের ওপর, কারণ মায়ের ডায়েটের প্রভাবও বুকের দুধে পড়ে। বাজারে অনেক নামী দামি কোম্পানির প্যাকেটের দুধ বা ফর্মুলা পাওয়া গেলেও ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধই খাওয়ান আপনার বাচ্চাকে। এটা শুধু আমরা বলছি না, বলছেন শিশু বিশেষজ্ঞরাও। Why breastfeeding is necessary? শিশুকে বুকের দুধ কেন খাওয়াতে হবে? একজন মা হয়ে অন্য মায়েদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান? মায়েদের কমিউনিটির একজন অংশীদার  হয়ে যান। এখানে ক্লিক করুন, আমরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।

null

null