শিশুর জন্য অপরিহার্য পাঁচ ভিটামিন

শিশুর জন্য অপরিহার্য পাঁচ ভিটামিন

সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার পর থেকেই মায়ের চিন্তার যেন আর শেষ নেই। বাচ্চার বাড়- বৃদ্ধি ঠিকঠাক হচ্ছে তো, প্রয়োজনীয় পুষ্টি সে পাচ্ছে তো? এরকম হাজারো চিন্তায় মায়ের রাতের ঘুমই যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে। ৬ মাস পর্যন্ত বাচ্চাদের যেহেতু বুকের দুধই একমাত্র সুষম খাবার, তাই এই কয়েকমাস হয়তো খাবার বা খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে মাকে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না। কিন্তু যেই বাচ্চা বড় হতে শুরু করে বা তার জিভের স্বাদ বদলানোর নিত্যনতুন খেয়াল শুরু হয়, অনেক মায়েরাই বিব্রত হয়ে পড়েন। কী ধরনের খাবার বাচ্চাকে দিলে তার বাড়ন্ত বয়সের পুষ্টি সম্পূর্ণ হবে বা তার শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি হবে, এই চিন্তায় গালে হাত পড়ে মায়েদের। এখানে একটা কথা বলি, সুষম খাবারের ধারণাটা ঠিক কী বা কোন খাবারের প্রয়োজন কোথায়, এই ছোট্ট ছোট্ট বিষয়গুলো একটু জেনে রাখলে অহেতুক চিন্তা করে বলিরেখা বাড়াতে হবে না আপনাকে। বাচ্চার খাবারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ভিটামিন। আর আজ এই ভিটামিন নিয়েই আমাদের চুলচেরা আলোচনা। Vitamins which are necessary for your child in Bengali.

Vitamins which are necessary for your child in Bengali

#1. ভিটামিন-এ (Vitamin A)-

উপকারিতা (Benefits)-

  • শিশুর ত্বক ভালো রাখে।
  • স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • দৃষ্টিশক্তি মজবুত করে।
  • দেহে পেশী ও কোষ তৈরিতে সাহায্য করে।
  • চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো করে।

কোন কোন খাবারে এই ভিটামিন-এ আছে ( Foods to eat)-

  • দুগ্ধজাত দ্রব্য।
  • কমলা ও হলুদ রঙের সবজি, ফল।
  • মিষ্টি আলু, ব্রকোলি।
  • শাকজাতীয় খাবার।

কোন বয়সের বাচ্চাদের কতটা ভিটামিন-এ প্রয়োজন (Need according to age)-

  • ১ থেকে ৩ বছরের বাচ্চার জন্য ৩০০ মাইক্রোগ্রাম রেটিনল অ্যাকটিভিটি
  • ইকুইভ্যালেনটস (retinol activity equivalents) প্রতিদিন।
  • ৪ বছরের বেশি বয়সের বাচ্চাদের প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম রেটিনল অ্যাকটিভিটি ইকুইভ্যালেনটস (retinol activity equivalents)।

#2. ভিটামিন বি১২ এবং অন্যান্য বি ভিটামিন (Vitamin B12 and other B vitamins)

উপকারিতা (Benefits)-

  • শিশুর হজমক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • হার্টের স্বাস্থ্য ভালো করে।
  • এনার্জি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
  • শরীরে লোহিতকণিকার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কোন কোন খাবারে এই ভিটামিন-বি আছে? (Foods to eat)

  • মাছ।
  • মাংস।
  • দুধ।
  • ডিম।
  • দানা শস্য।
  • সয়া মিল্ক।
  • প্রাণীজ প্রোটিন।

কোন বয়সের বাচ্চাদের কতটা ভিটামিন-বি ও বি১২ প্রয়োজন (Need according to age)

  • একদম ছোট বাচ্চার জন্য প্রতিদিন ০.৫ মাইক্রোগ্রাম।
  • বাড়ন্ত বাচ্চাদের জন্য প্রতিদিন ০.৯ মাইক্রোগ্রাম।
  • ৪ থেকে ৮ বছর বয়সি বাচ্চাদের জন্য এর পরিমাণ ১.২ মাইক্রোগ্রাম প্রতিদিন।

#3. ভিটামিন-সি (Vitamin C)

উপকারিতা (Benefits)-

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ইনফেকশন হওয়ার ধাত কম করে।
  • দেহের কোষ ও মাংসপেশী শক্তিশালী করে।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
  • শিশুর দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো করে।
  • অন্যান্য খাবার থেকে আয়রন শোষণ করতে শরীরকে সাহায্য করে।
  • রক্ত চলাচলে সাহায্য করে।

কোন কোন খাবারে এই ভিটামিন-সি আছে? (Foods to eat)

  • সাইট্রিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ফল।
  • অঙ্কুরিত ছোলা।
  • আলু, টম্যাটো।
  • ব্রকোলি।
  • পালং শাক ।

কোন বয়সের বাচ্চাদের কতটা ভিটামিন-সি প্রয়োজন (Need according to age)

  • ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্য প্রতিদিন ১৫ মিলিগ্রাম।
  • ৪ থেকে ৮ বছরের বাচ্চাদের জন্য প্রতিদিন ২৫ মিলিগ্রাম ।

#4.ভিটামিন ডি (Vitamin D)

উপকারিতা (Benefits)

  • শিশুর দাঁত ও হাড় শক্তিশালী হয়।
  • শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।
  • জীবনে পরবর্তী কালে ক্রনিক সমস্যায় ভোগার আশঙ্কা কমে যায়।

কোন কোন খাবারে এই ভিটামিন-ডি আছে? (Foods to eat)

  • ডিমের কুসুম।
  • ফরটিফায়েড দুগ্ধজাত দ্রব্য।
  • এছাড়াও সূর্যের রোদও এই ভিটামিনের খুব ভালো একটি উৎস।

কোন বয়সের বাচ্চাদের কতটা ভিটামিন-ডি প্রয়োজন (Need according to age)

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৪০০ ইন্টারন্য়াশনাল ইউনিট ভিটামিনের প্রয়োজন হয়।

#5. ভিটামিন-ই (Vitamin E)

উপকারিতা (Benefits)

  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • রক্তপ্রবাহের নালিকা পরিষ্কার রাখে ও ভালোভাবে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে।

কোন কোন খাবারে এই ভিটামিন-ই আছে? (Foods to eat)

  • আমন্ড, হ্যাজেলনাট ইত্যাদি বাদাম।
  • ভেজিটেবিল অয়েল যেমন সানফ্লাওয়ার অয়েল।
  • সূর্যমুখীর বীজ।

কোন বয়সের বাচ্চাদের কতটা ভিটামিন-ই প্রয়োজন (Need according to age)

  • ১ থেকে ৩ বছরের বাচ্চাদের জন্য ৯ ইন্টারন্য়াশনাল ইউনিট প্রতিদিন।
  • ৪ থেকে ৮ বছরের বাচ্চাদের জন্য ১০.৪ ইন্টারন্য়াশনাল ইউনিট প্রতিদিন।

বাচ্চারা একদিন কম খাবার খেলে বা এইসমস্ত খাবার একসাথে না খেতে চাইলে, তাদের শরীর অসুস্থ হয় না।বাচ্চার ওজন যদি বয়স অনুযায়ী ঠিক থাকে এবং তার বাড়-বৃদ্ধি ঠিকমতো হয়, তাহলে তার খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে অহেতুক চিন্তা করবেন না। সাধারণত খাবার থেকেই বাচ্চা তার প্রয়োজনীয় ভিটামিন পেয়ে যায়। বিনা কারণে, বাচ্চাকে বাইরে থেকে ভিটামিন ওষুধ খাওয়াতে যাবেন না। কোনও কারণে যদি আপনার বাচ্চার ডাক্তার তাকে ভিটামিন ওষুধ খাওয়াতে বলেন, একমাত্র তবেই বাচ্চাকে বাইরের ভিটামিন ওষুধ খাওয়াবেন।

একজন মা হয়ে অন্য মায়েদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান? মায়েদের কমিউনিটির একজন অংশীদার  হয়ে যান। এখানে ক্লিক করুন, আমরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।

null

null