মুখে ভাত হলো সারা, এবার তবে সলিড খাবার শুরুর পালা!

মুখে ভাত হলো সারা, এবার তবে সলিড খাবার শুরুর পালা!

‘অনেক হয়েছে মায়ের দুধ। বাচ্চা বলে কি সাধ থাকতে নেই। রোজ কত কী খাও তোমরা। কিচ্ছুটি দাও না আমায়!’

বাচ্চার মনের না-বলা এই দুঃখ ঘোচাতেই মায়েদের জন্য আজ একগুচ্ছ নরম/পরিজ খাবারের রেসিপি বাতলে দিচ্ছি আমরা। যা একাধারে খেতে ভালো আবার পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ!

সাধারণত ছয় মাসের পর থেকে শিশুরা একটু-আধটু খাবার খেতে শুরু করে, কিন্তু সেটা কখনওই আমাদের রোজের খাবারের মতো নয়। মায়েরা তাই স্বাভাবিক ভাবেই একটু চিন্তায় পড়ে যায়, কেননা তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না যে বাচ্চাদের ঠিক কী কী বা কী ধরনের খাবার দেওয়া উচিত। তাই অনেকেই বাইরের প্যাকেটজাত খাবারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু এই খাবার থেকে দরকারি পুষ্টি পায় না বাচ্চারা। মায়েদের এই সমস্য়া মেটাতেই সুস্বাদু কিছু নরম খাবারের হদিস থাকছে এখানে।

নরম এই খাবারগুলো হজমে সহজ এবং স্বাস্থ্যকর। এটা তৈরি করা এতটুকু কষ্টকর নয় আর খুব কম সময়ের মধ্যে বানিয়েও ফেলা যায়। ফল-সবজি সেদ্ধ করে, পেস্ট করে একেক সময় একেক রকম খাবার বানিয়ে ফেলুন, যাতে খাবার নিয়ে আপনার বাচ্চার কখনই একঘেয়েমি না লাগে!

সাতটি নরম/পরিজ খাবারের রেসিপি (7 porridge recipes for babies in Bengali)

#1. ছোট এলাচ এবং ডালিয়ার জাউ

উপকরণঃ

  • ডালিয়া- তিন টেবিল-চামচ
  • সবুজ কলাই- এক টেবিল-চামচ
  • এলাচ- তিনটি, শুঁটি ছাড়ানো

পদ্ধতিঃ

  • গম ডালিয়া, সবুজ কলাই এবং এলাচ শুকনো করে একটু ভেজে নিন।
  • আলাদা আলাদা করে গুঁড়ো করে তারপর একসাথে মিশিয়ে নিন।
  • পরিমাণমতো গরম জল এই মিশ্রণে দিন।
  • ভালো করে মিশিয়ে নিন, তারপর আপনার বাচ্চাকে দিন।

#2. চাল এবং মুগ ডালের জাউ  

উপকরণঃ

  • চাল- তিন টেবিল-চামচ
  • ডাল- দুই টেবিল-চামচ

পদ্ধতিঃ

  • চাল ধুয়ে নিয়ে শুকিয়ে নিন, তারপর গুঁড়ো করুন।
  • ডাল একটু ভেজে গুঁড়ো করে নিন।
  • দুটোকে একসাথে মিশিয়ে নিন।
  • গরম জলের মধ্যে মিশ্রণটা দিয়ে নাড়তে থাকুন কিছুক্ষণ।

 আর আপনার চাল এবং ডালের নরম, সেদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি!  

#3. মধু এবং ওটস-এর জাউ

উপকরণঃ

  • দুধ- এক কাপ,
  • কাপের চার ভাগের তিন ভাগ ওটস                                       
  • মধু- এক চামচ

পদ্ধতিঃ

  • দুধ গরম করুন এবং গরম হলে তার মধ্যে ওটস মেশান।
  • যখন ওটস রান্না হবে, টানা নাড়তে থাকুন।
  • এরপর গ্য়াস থেকে নামিয়ে এর মধ্যে মধু মেশান।

  আপনার সুপার স্বাস্থ্যকর ওটস মিশ্রণ খাবার জন্য তৈরি!   

#4.  ভুট্টার জাউ

উপকরণঃ

  • ভুট্টা পাউডার- চার টেবিল-চামচ                                               
  • মুগ ডাল পাউডার- চার টেবিল-চামচ                                           
  • তিল পাউডার- আধা চামচ

পদ্ধতিঃ

  • তিনটি পাউডার আলাদা করে শুকনো করে ভেজে নিন।
  • একসাথে মিশিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি গরম জলে মেশান এবং আস্তে আস্তে নাড়তে থাকুন।

আপনার শিশুর জন্য গমের নরম মিশ্রণ তৈরি!

#5. সয়াবিন এবং গমের জাউ

উপকরণঃ

  • গোটা গম- পাঁচ টেবিল-চামচ                                               
  • গোটা সয়াবিন- দেড় চামচ

পদ্ধতিঃ

  • প্রথমে দুটোকে শুকনো করে ভেজে নিন। এরপর গোটা সয়াবিন আর গোটা গম বালির মতো গুঁড়ো করে নিন।
  • দুটোকে আলাদা আলাদা করে গুঁড়ো করবেন।
  • দুটোকে একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • এরপর গরম জলে মিশ্রণটি দিয়ে আস্তে আস্তে নাড়তে থাকুন।

#6. আপেল ও রাগির জাউ

উপকরণঃ

  • রাগি আটা- দুই টেবিল চামচ
  • অর্ধেক আপেল

পদ্ধতি

  • আপেলটা কেটে একদম গলিয়ে ফেলুন।
  • রাগি আটা জলে মেশান এবং রান্না করুন।
  • রাগি মিশ্রণ আর আপেলের মিশ্রণ একসঙ্গে মিলিয়ে নিন।

পরিবেশন করুন!

#7. চিনাবাদাম এবং গমের জাউ

উপকরণঃ

  • চিনাবাদাম- তিন টেবিল চামচ
  • গম- তিন টেবিল চামচ
  • সবুজ কলাই- আড়াই টেবিল চামচ

পদ্ধতিঃ

  • চিনাবাদাম, গম এবং সবুজ কলাই শুকনো করে ভেজে নিন কড়াইতে।
  • যখন ভাজা হয়ে যাবে মিশ্রণটি গুঁড়ো করে নিন।
  • এই মিশ্রণটা চার চামচ গরম জলে দিন।
  • নাড়তে থাকুন যাতে পুড়ে না যায় এবং আপনার বাচ্চাটিকে গরম গরম পরিবেশন করুন।

নতুন নতুন খাবারগুলো বাচ্চাদের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে, তাই খাবারগুলো দেওয়ার পর একটু লক্ষ্য রাখুন কোনও রকম ফুসকুড়ি বেরোচ্ছে কি না বা বমি বা বদহজম হচ্ছে কি না। নিয়ম অনুযায়ী, একটা নতুন খাবার দিলে, তার তিন দিনের আগে অন্য কোনও নতুন খাবার দেবেন না। নয়তো আপনার বাচ্চার কোনও খাবারে অ্য়ালার্জি থাকলে তা বুঝতেই পারবেন না। তা ছাড়া খাবারগুলো দেওয়ার আগে একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিশ্চয়ই নিতে পারেন।

একজন মা হয়ে অন্য মায়েদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান? মায়েদের কমিউনিটিতে একজন অংশীদার  হয়ে যান। এখানে কিল্ক করুন, আমরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবো।

null

null