প্যাসিফায়ারঃ একটি বিশদ আলোচনা

প্যাসিফায়ারঃ একটি বিশদ আলোচনা

প্যাসিফায়ার কী? (What is a Pacifier?)

প্যাসিফায়ার হলো মায়েদের স্তনবৃন্তের আকারে তৈরি এমন একটি জিনিস যা শিশুদের আরাম দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।মূলত এটি একটি কৃত্রিম স্তনবৃন্ত যাতে শিশুর সুবিধায় রিং-এর মতো হাতল লাগানো থাকে। অনেকে একে চুষিকাঠিও বলে থাকেন। এই প্যাসিফায়ার এমন আকারের হয় যাতে শিশু কখনই পুরোটা মুখে ঢুকিয়ে নিতে না পারে। এইগুলো সুদারস (soothers) নামেও পরিচিত। আমাদের, বাবা-মাদের মধ্যে সবসময় একটা উদ্বেগ কাজ করে, যে বাচ্চাদের জন্য প্যাসিফায়ার ব্যবহার করা উচিত, না উচিত নয়। নতুন বাবা-মা হিসেবে, আপনি প্রায়শই আপনার বাচ্চার যত্ন এবং আরাম নিয়ে চিন্তিত থাকেন এবং প্যাসিফায়ার আপনার কাছে খুবই কার্যকরী বলে মনে হতে পারে। যেখানে কিছু বাচ্চা আদর করলে, দোল খাওয়ানো হলে বা স্তন্যপানের সময় বেশ আরাম পায়, অনেক বাচ্চা সেই আরাম নিতে পারে না। যদি আপনার সদ্যজাত বাচ্চা খাওয়ানোর পরে ঢেকুর তোলে, দোল খাওয়ানো বা আদর করার পরও ছটফট করতে থাকে, প্যাসিফায়ার এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। এটা ব্যবহার করা খুবই সহজ এবং বাচ্চা সহজেই শান্ত হয়ে যায়; কিন্তু এটা শুধু যদি আপনি একদিক দিয়ে বিচার করেন, তা হলেই।      

বাচ্চার কত বয়স হলে প্যাসিফায়ার দিতে পারেন? (At what age can you give the pacifier to the baby?)

প্যাসিফায়ার ব্যবহার করানোর কোনও নির্দিষ্ট বয়স বাচ্চার ক্ষেত্রে থাকে না। আপনি বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াবেন না খাওয়াবেন না, তার ওপরও এটা নির্ভর করে। যদি আপনি বাচ্চাকে বোতলে করে দুধ খাওয়াতে চান, আপনি প্যাসিফায়ার ব্যবহার করানো শুরু করতে পারেন কারণ, কিছু বাচ্চার প্রবণতা থাকে স্তন্যপানের সময় বুকের দুধ না টেনে শুধুই স্তনবৃন্ত টেনে যাওয়া। বাচ্চা বোতলেও যদি এরকম করতে থাকে, তা হলে তাতে গ্যাস হতে পারে। কিছু শিশু বিশেষজ্ঞর পরামর্শ অনুযায়ী, বাচ্চা একটি নির্দিষ্ট ওজনের না হওয়া পর্যন্ত প্যাসিফায়ার ব্যবহার করা উচিত নয়। বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে চাইলে, তার ছয় সপ্তাহ বয়সের পরেই তাকে প্যাসিফায়ার দিন যাতে আসল আর নকল স্তনবৃন্তে শিশু তফাৎ না করতে পারে।

বাচ্চাকে প্যাসিফায়ার কীভাবে দেবেন? (How to give Pacifier to the baby?)

যখনই বাচ্চাকে প্যাসিফায়ার দেওয়ার মনস্থির করবেন, এই কথাগুলো মাথায় রাখবেনঃ  
  • বাচ্চাকে পেট ভর্তি করে খাওয়ানোর পরেই ওকে প্যাসিফায়ার দিন।
  • খাওয়ানোর সময় এবং প্যাসিফায়ার দেওয়ার মধ্যে প্রয়োজনীয় সময়ের ফারাক রাখুন।
  • বাচ্চা কাঁদলে তাকে শান্ত করতে প্যাসিফায়ার দেবেন না। কান্না থামার পরেই দিন।
  • প্রথমবার প্যাসিফায়ার দেওয়ার সময় বাচ্চার মুখে সেটা ঢুকিয়ে দেবেন না। বাচ্চার গালে আলতো করে ঠেকিয়ে রাখুন, যদি বাচ্চা পছন্দ করে, সে নিজেই প্যাসিফায়ার টেনে নিয়ে চুষতে শুরু করবে।

আবার কিছু বাচ্চা প্যাসিফায়ার পছন্দ করে না। তার কিছু কারণ হলঃ (Why some babies don’t like pacifiers?)

  • সম্ভবত আপনার বাচ্চার প্যাসিফায়ারের স্বাদ পছন্দ নয়। এতে অল্প বুকের দুধ লাগিয়ে দিয়ে তারপর বাচ্চাকে দিতে পারেন।
  • সব বাচ্চা একই ধরনের প্যাসিফায়ার পছন্দ করে না বা অনেকে প্যাসিফায়ারই পছন্দ করে না। যদি আপনার বাচ্চা প্রথমবার প্যাসিফায়ার না নিতে চায়, কয়েক দিন পরে আবার চেষ্টা করুন এবং অন্য ধরনের প্যাসিফায়ার দিয়েও চেষ্টা করুন। তাতেও না হলে, বাচ্চার মতামতকেই গুরুত্ব দিন।

বাচ্চার প্যাসিফায়ার কতদিন পরপর বদলানো উচিত? (How often should you replace your baby’s pacifier?)

প্যাসিফায়ার বদলানোর জন্য এই বিষয়গুলোয় লক্ষ্য রাখুনঃ
  • প্যাসিফায়ারের নিপল (nipple)-এ ফুটো হয়ে গিয়েছে বা কেটে গিয়েছে।
  • নিপল লম্বা হয়ে গিয়েছে।
  • রং বদলে গিয়েছে।
  • নিপল চ্যাটচেটে হয়ে গিয়েছে।
  • প্যাসিফায়ারের রিং বা মুখ নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে।
  • প্লাস্টিকের ধারালো অংশ উঠে আসছে।

বাচ্চার প্যাসিফায়ার কীভাবে পরিষ্কার করবেন? (How to clean your baby’s pacifier?)

বাচ্চার প্যাসিফায়ার পরিষ্কার করার সবথেকে ভালো উপায় একে গরম জলে ধুয়ে নেওয়া, যেমন আপনি ফিডিং বোতল এবং নিপলে করে থাকেন। বিশেষভাবে পরিষ্কার করার কোনও নির্দেশ আছে কি না জানতে, প্যাসিফায়ারের প্যাকেট দেখে নিন।   

প্যাসিফায়ার কেনার সময় যা দেখে নেবেন  (Things to consider while choosing a pacifier for your baby)

যদি আপনি ভেবে থাকেন প্যাসিফায়ার কেনার মধ্যে একেবারেই ঝামেলা নেই, তা হলে আপনি ভুল করছেন। বাচ্চার জন্য প্যাসিফায়ার কেনার সময় অবশ্যই এগুলো মনে রাখুনঃ

# 1. সাইজ (The size)- বাচ্চার বয়স অনুযায়ী প্যাসিফায়ার কিনুনঃ

0-৬ মাস- ছোট (Small) ৬-১৮ মাস- মাঝারি (Medium) 18 মাস ও তার বেশি- বড় (Large) বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাইজ বিভিন্ন হয়, সেই অনুযায়ী দেখে কিনুন।

#2. গঠন (The construction)

যদিও একমুখ প্যাসিফায়ার সবচেয়ে নিরাপদ, অনেকক্ষেত্রে অনেক মুখওয়ালা প্যাসিফায়ারও ভালো হয়। শুধু ভালো করে দেখে নিন, যাতে সব মুখ শক্তভাবে লাগানো থাকে এবং মুখে আটকানোর ভয় না থাকে।

#3. নিপল কী দিয়ে তৈরি (The Material of the Nipple)

প্যাসিফায়ারের নিপল বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি হয়ে থাকেঃ
  • সিলিকন(Silicone): প্যাসিফায়ার নিপল বানাতে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। খুব সহজেই এটা পরিষ্কারও করা যায়।
  • ল্যাটেক্স (Latex): সিলিকনে তৈরি নিপল থেকে ল্যাটেক্সে তৈরি নিপল বেশি নরম ও নমনীয় হয়। যদি বাচ্চার ল্যাটেক্সে অ্য়ালার্জি থাকে, তা হলে এটা ব্যবহার করবেন না।
  • শক্ত প্লাস্টিক (Hard Plastic): যদিও এই নিপল অনেকদিন বেশি চলে, কিন্তু প্যাসিফায়ার তৈরিতে এই শক্ত প্লাস্টিক সাধারণত ব্যবহার করা হয় না, কারণ এর স্বাদ বাচ্চারা পছন্দ করে না, এবং কিছুদিন ব্যবহারের পরে এর কিছু অংশ উঠে এসে বাচ্চার নরম মুখ কেটে যেতে পারে।
  • রং (Color)- উজ্জ্বল রঙের প্যাসিফায়ার কিনুন। এতে এটা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
  • প্যাসিফায়ারের গার্ড (Guard of a pacifier) - এই গার্ড কমপক্ষে দেড় ইঞ্চি  লম্বা হওয়া উচিত যাতে শিশু পুরোটা কখনও মুখে ঢোকাতে না পারে।একটি আদর্শ প্যাসিফায়ারের গার্ডে ছোট ছোট ফুটো থাকে, যা হাওয়া চলাচলে সাহায্য করে ও বাচ্চার মুখ ঘামতে দেয় না ও র‍্যাশের সম্ভাবনাও থাকে না।

বাচ্চাকে প্যাসিফায়ার দেওয়ার উপকারিতা (Advantages of giving a pacifier to a baby)

#1. আঙুল চোষার থেকে ভালো (Is better than Thumb-sucking)

বাচ্চার আঙুল চোষার অভ্যেস ছাড়ানোর থেকে প্যাসিফায়ারের অভ্যেস ছাড়ানো সহজ।

#2. বাচ্চাদের হঠাৎ মৃত্যুর সম্ভাবনা কমে (Reduced risk of SIDS)

 কিছু পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যেসব বাচ্চারা ঘুমনোর সময় প্যাসিফায়ার ব্যবহার করে, তাদের সিডস (sudden infant death syndrome) বা হঠাৎ মৃত্যুর সম্ভাবনা কম হয়। মনে করা হয়, প্যাসিফায়ার মুখে থাকার ফলে বাচ্চার মুখ ও নাকের মাঝখানে জায়গায় বাতাস চলাচল করে এবং অক্সিজেনের ঘাটতি হয় না কোনও ভাবেই। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (American Academy of Pediatrics) (AAP) এর মতানুসারে, ঘুমনোর সময় এক বছরের কম বয়সি বাচ্চাদের প্যাসিফায়ার দেওয়া উচিত।

#3. ব্যথা কমাতে সাহায্য করে (Helps in relieving pain)

ভ্যাক্সিন বা টিকা নেওয়ার পরে প্যাসিফায়ার চুষলে বাচ্চার ব্যথা কম হয়।

#4. প্রিম্যাচিওর বাচ্চাদের স্তন্যপানে অভ্যস্ত করায় (Helps premature babies suck)

প্রিম্যাচিওর বাচ্চারা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তাদের প্যাসিফায়ার ব্যবহার করালে তারা পরবর্তীকালে সহজেই স্তন্যপানে অভ্যস্ত হতে পারে।

#5. বাচ্চা অতিরিক্ত আরাম পায় (Added comfort)

বাচ্চাদের সহজাত প্রবণতা থাকে কোনও কিছু চুষতে থাকার; তা সে বোতলই হোক বা মায়ের দুধ। মা দুধ খাইয়ে দেওয়ার পরেও কিছু বাচ্চার মুখে চোষার মতো কিছু থাকলে, তারা নিরাপদ বোধ করে এবং মা কাছে ভেবে আরাম পায়। এক্ষেত্রে প্যাসিফায়ার খুবই কাজে লাগে। উপরন্তু আঙুল খাওয়ার বাজে অভ্যেসও বাচ্চার হয় না।

#6.  বাচ্চাকে সাময়িকভাবে অন্যমনস্ক করতে সাহায্য করে (Temporary distraction)

একদম ছোট্ট বাচ্চাকে হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে, বাচ্চা যদি খুব ছটফট করে, সেক্ষেত্রে প্যাসিফায়ার মুখে দিলে বাচ্চা ওইদিকেই মন দেয় এবং ছটফটানি কম করে। পোলিও ইঞ্জেকশান বা রক্তপরীক্ষা করানোর সময় বাচ্চাকে অন্যমনস্ক রাখতে সাহায্য করে এই প্যাসিফায়ার।

#7. উড়ানকালীন অস্বস্তি কমায় (Reduced discomfort during flights)

প্যাসিফায়ার মুখে থাকলে, প্লেনে যাতায়াতের সময় বাতাসের চাপের তারতম্যের জন্য কানে ব্যথা ও অস্বস্তি থেকে শিশু আরাম পায়।

বাচ্চাকে প্যাসিফায়ার  দেওয়ার অপকারিতা (Disadvantages of using pacifiers)

বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থা (World Health Organization) প্যাসিফায়ার ব্যবহারের বিরুদ্ধে। ইউনাইটেড নেশন্স চিলড্রেনস ফান্ড (United Nations Children’s Fund)/ ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন (World Health Organization)-এর নবম পর্যায়ে “বাচ্চাদের উপযোগী হাসপাতাল উদ্যোগঃ সফলভাবে স্তন্যপান করানোর দশটি পদ্ধতি” অনুযায়ী, “ স্তন্যপান করা কোনও বাচ্চাকে কোনও কৃত্রিম প্যাসিফায়ার বা সুদার দেবেন না।” অনেক শিশু বিশেষজ্ঞই এর সাথে একমত। তার কিছু কারণ হল;

#1. স্তন্যপানে সমস্যা (Problems with breastfeeding)

প্যাসিফায়ার চোষা আর স্তন্যপান করার মধ্যে পার্থক্য থাকে। আর অনেকসময় কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাচ্চা স্তন্যপান করতে চায় না। এই কারণে, বাচ্চা একটা নির্দিষ্ট ওজনে পৌঁছলে তবেই তাকে প্যাসিফায়ার অভ্যেস করানো উচিত।

#2. দাঁতের সমস্যা (Can cause dental problems)

দীর্ঘদিন ধরে প্যাসিফায়ার ব্যবহার করলে (দু’বছরের পরেও) বাচ্চার দাঁতের গঠন ও সুন্দর সারি গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে।দীর্ঘদিন প্যাসিফায়ার ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি দাঁতের সমস্যাও হতে পারে। ডাক্তাররা এও বলে থাকেন যে, ছয় মাসের পরে প্যাসিফায়ার না দিলে বাচ্চার দাঁতের সমস্যা হয় না।  

#3. কানে সংক্রমণ হতে পারে (Can cause middle ear infections)

কিছু পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্যাসিফায়ার বেশি ব্যবহার করলে বাচ্চাদের কানে সংক্রমণের প্রবণতা বেড়ে যায়।

#4. কথা বলা ও ভাষা শেখার সমস্যা (Speech and language problems)

প্যাসিফায়ারের অত্যধিক ব্যবহারে বাচ্চার কথা বলা শিখতে বা সঠিক উচ্চারণে অনেকসময় অসুবিধা হয়।

#5. ঘুমের ব্যাঘাত (Sleep issues)

প্যাসিফায়ার মুখ থেকে পড়ে গেলে বাচ্চা ঘুমের মধ্যে বারবার কেঁদে ওঠে।

#6. কোনও কিছু শিখতে বাধা (Hampers learning)

বাচ্চা প্যাসিফায়ারের দিকেই মনোযোগ দিয়ে থাকলে, অন্য খেলনা নিয়ে খেলা বা অন্য কিছু শেখার আকর্ষণ কমে যায়।

#7. বাচ্চাকে অমিশুকে করে দিতে পারে (Stops baby from communicating)

বাচ্চার কান্না যেহেতু তার সাথে তার মা-বাবার যোগাযোগের একটা মাধ্যম, তাই বাচ্চা কাঁদলেই প্যাসিফায়ার দিয়ে দিলে বাচ্চা অমিশুকে হয়ে যেতে পারে এবং একলা থাকতে পছন্দ করে।

#8. সংক্রমণের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে (Can lead to various infections)

প্যাসিফায়ার নোংরা থাকলে বা ঠিকমতো পরিষ্কার না করা হলে, বাচ্চার শরীরের ক্ষতি হয় এবং ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

কীভাবে প্যাসিফায়ার-এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করবেন (How to Regulate Your Baby’s Pacifier Use)

এইসমস্ত কিছু পড়ার পরে, যদি আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে আপনার ছটফটে বাচ্চাকে শান্ত রাখতে আপনি প্যাসিফায়ার ব্যবহার করবেন, তা হলে অবশ্যই এই বিষয়গুলি মনে রাখুন।  

#1. খাওয়ানোর মাঝামাঝি সময়ে প্যাসিফায়ার দিন  (Offer the pacifier in between two feedings)

স্তন্যপানের সাথে প্যাসিফায়ার দেওয়াকে কখনই গুলিয়ে ফেলবেন না। বাচ্চা ছটফট করলে বা কাঁদলে আগে দেখে নিন, তার খিদে পেয়েছে কি না বা ডায়াপার পাল্টাতে হবে কি না। বাচ্চার পেট ভর্তি আছে এরকম অবস্থাতেই প্যাসিফায়ার দিন। সবথেকে ভালো, একবার খাওয়ানোর পর, আরেকবার খাওয়ানোর মাঝামাঝি সময়ে বাচ্চা ছটফট করলে প্যাসিফায়ার দিন।

#2. বাচ্চাকে ঠিক করতে দিন সে কী চায় (Let your baby guide your decision)

বাচ্চাকে প্যাসিফায়ার তখনই দিন, যখন সে নিতে চাইবে। জোর করে মুখে প্যাসিফায়ার গুঁজে দেবেন না।

#3. বিশ্রাম নেওয়ার সময় ও রাতে ব্যবহার করতে দিন (Use during a nap time and bedtime)

বাচ্চা যদি ঘুমোতে না চায়, তাকে আদর করুন, দোল খাওয়ান, গান গেয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুন। তারপরেও যদি বাচ্চা ছটফট করে, তবেই তাকে প্যাসিফায়ার দিন।বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়লে তার মুখে আর প্যাসিফায়ার দেবেন না।  

#4. প্যাসিফায়ার পরিষ্কার রাখুন (Keep the pacifier clean)

গরম জলে প্যাসিফায়ার ভালো করে পরিষ্কার করুন এবং শুকনো জায়গায় রাখুন। আপনার মুখে নিয়ে প্যাসিফায়ার পরিষ্কার করতে যাবেন না, কারণ এতে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়। মিষ্টিজাতীয় কোনও দ্রবণে এটা পরিষ্কার করবেন না, এতে শিশুর ক্যাভিটি হতে পারে। বিপিএ (BPA bisphenol-A) নেই, এমন প্যাসিফায়ার কেনাই যুক্তিসঙ্গত।

#5. প্যাসিফায়ার বেঁধে দেবেন না (Don’t tie a pacifier)

বাচ্চার গলায় বা খাটে কখনই প্যাসিফায়ার বেঁধে রাখবেন না। এতে অসাবধানবশত বাচ্চার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। প্রয়োজনে বাচ্চার জামায় প্যাসিফায়ার ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখুন।

#6. প্রয়োজনের তুলনায় ওজন কম, এমন বাচ্চাকে প্যাসিফায়ার দেবেন না (Don’t give a pacifier to an underweight baby)

বাচ্চা স্তন্যপান করতে না চাইলে এবং প্রয়োজনমতো তার ওজন না বাড়লে তাকে প্যাসিফায়ার দেবেন না। বাচ্চার যদি বারবার কানে ইনফেকশন হতে থাকে, তা হলেও তাকে প্যাসিফায়ার দেবেন না।

প্যাসিফায়ার ব্যবহার করতে গেলে কি কি সাবধানতা অবলম্বন করবেন (Precautions while using a pacifier for your child

  • প্যাসিফায়ারে যেন কোনও মিষ্টি পদার্থ না থাকে। মধু থাকলেও তা এক বছর বয়সের কম বাচ্চার গলায় আটকাতে পারে।
  • বাচ্চার খিদের সময় তাকে প্যাসিফায়ার দেবেন না।
  •  একই প্যাসিফায়ার দু’জন বাচ্চাকে দেবেন না।

বাচ্চাকে প্যাসিফায়ার ছাড়ানোর কিছু সহজ উপায় (Simple tips to wean a child off the pacifier)

এই অভ্যেস ছাড়তে বাচ্চার কিছু সময় অবশ্যই লাগে। কিছু বাচ্চার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সপ্তাহ লেগে যায় এই অভ্যেস ছাড়ানোর জন্য। এ বিষয়ে বাবা-মায়ের জন্য এখানে কিছু পরামর্শ রইলঃ  
  •  বাচ্চাকে বেশি করে আদর করুন।
  • রাতে ঘুমনোর সময় ছাড়া প্যাসিফায়ারের ব্যবহার করবেন না।
  •  বাচ্চার আরামের জন্য অন্য কিছু উপায় বের করুন।
  • বাচ্চার সাথে সময় কাটান ও তাকে ব্যস্ত রাখুন।
  • প্যাসিফায়ার না নিলে বাচ্চাকে তার জন্য আদর করুন।
  • কোথাও ঘুরতে গেলে বা বাচ্চাকে ডে-কেয়ারে রেখে গেলে সেখানে প্যাসিফায়ার নিয়ে যাবেন না।
  • প্যাসিফায়ার না নিলে বাচ্চাকে কিছু উপহার দিন।
  • প্যাসিফায়ার কিছু তেতো মিশ্রণে (খাদ্যপযোগী) ডুবিয়ে শিশুকে দিন, শিশু নিজেই আর নিতে চাইবে না।
  • বাচ্চাকে বেড়ে ওঠার উপযোগী খেলনা কিনে দিন।
একজন মা হয়ে অন্য মায়েদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান? মায়েদের কমিউনিটির একজন অংশীদার  হয়ে যান। এখানে ক্লিক করুন, আমরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।

null

null