শীতকালে বাচ্চাকে যা খাওয়াতেই হবে

শীতকালে বাচ্চাকে যা খাওয়াতেই হবে

প্রকৃতি প্রত্যেক ঋতুতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর সবজি-ফলমূলের সম্ভার নিয়ে আসে। তাজা মরসুমি শাকসবজি বা ফল খাওয়া সবসময়ই ভালো। বাচ্চাদের এই শীতকালে অনেক বেশি এনার্জির প্রয়োজন হয়। আবার অন্য ঋতুর তুলনায়, তারা নানাধরনের শারীরিক সমস্যা বা এলার্জিতেও বেশি ভুগতে পারে। প্রিয় মায়েরা, চিন্তার কোনও কারণ নেই। এখানে কিছু বিশেষ খাবার এবং      রেসিপি নিয়ে আলোচনা করা হল, যা শীতকালে বাচ্চার জন্য খুবই উপকারী। শীত তো এখনও শেষ হয়ে যায়নি, তাই আপনার বাড়ির কাছেই সুপারমার্কেটে সমস্ত কিছু পেয়ে যাবেন, আর আপনার বাচ্চাও একটা স্বাস্থ্য-ঝলমলে শীত কাটাতে পারবে।

বাচ্চাকে শীতকালে কী কী খাওয়াবেন (Essential winter foods for kids)

#1. রসুন (Garlic)

কেন খাওয়াবেনঃ (Why garlic) - অ্যালিসিন সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে, রসুনের থেকে খুব শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেনট পাওয়া যায়, যা শরীরকে অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে; বিশেষত সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে। প্রস্তাবিত রেসিপি (Suggested Recipe)-  বাড়ন্ত বাচ্চারা কাঁচা রসুন খেতে চায় না, কিন্তু রসুন দিয়ে সস বা ব্রেড বানিয়ে দিলে তারা সেটা সহজেই খেয়ে নেয়।   উপকরণ(Ingredients) -
  • ২ স্লাইস ব্রেড
  • ৭-৮ কোয়া রসুন, কুচিয়ে নেওয়া
  • ১ টেবিল চামচ চিজ গ্রেট করা
  • সরু সরু করে কেটে নেওয়া সবজি ১ কাপ (গাজর, শসা, টম্যাটো, বাঁধাকপি)।
  • ১ চা- চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো
  • ৫০ গ্রাম মাখন
  • নুন স্বাদমতো
প্রণালী (Method):
  • ২০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ওভেন আগে থেকে গরম করে নিন।
  • ব্রেডগুলো তিনকোণা করে কেটে আলাদা রেখে দিন।
  • একটা বাটিতে সবজি আর চিজটা নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • আরেকটা বাটিতে মাখব, রসুন, অল্প নুন, গোলমরিচ নিয়ে ভালো করে মেশান।
  • ব্রেডের ওপর এই মিশ্রণ লাগিয়ে ওপরে সবজি আর চিজ দিয়ে দিন।
  • ওভেনে ৬-৭ মিনিট বেক হতে দিন ও পরিবেশন করুন।

#2. গাজর (Carrots)

কেন খাওয়াবেনঃ (Why carrots)- গাজর বিটা-ক্যারোটিনের অন্যতম উৎস। গাজর শুধু দৃষ্টিশক্তি ভালো করে তাই নয়, শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যাও বাড়ায়। এই শ্বেত রক্তকণিকা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রস্তাবিত রেসিপি (Suggested Recipe)-  দেশি ঘি মেশানো মিষ্টি গাজরের হালুয়া খুবই মুখরোচক একটি খাবার। এছাড়াও বাচ্চাদের আপনি গাজরের স্যুপও দিতে পারেন। উপকরণঃ (Ingredients)-
  • ৫০০ গ্রাম গাজর
  • ৭৫০ মিলিলিটার দুধ
  • ৪টে এলাচ
  • ৫-৭ টেবিল চামচ ঘি
  • ৪-৬ টেবিল চামচ চিনি
  • ১ টেবিল চামচ কিশমিশ
  • ১ টেবিল চামচ ছাড়ানো অ্য়ামন্ড
  • কুচোনো খেজুর ১ টেবিল চামচ
প্রণালীঃ (Method)-
  • খোসা ছাড়িয়ে গাজরগুলো গ্রেট করে নিন।
  • দুধে এলাচ মিশিয়ে গাজরটা ফোটাতে থাকুন, যতক্ষণ না দুধ প্রায় মরে আসে।
  • ঘি গরম করে গাজরে মিশিয়ে দিন।
  • অল্প আঁচে ১০ মিনিট রান্না করুন।
  • হালুয়া লালচে হয়ে এলে চিনি ও শুকনো ফল মিশিয়ে খেতে দিন।
লক্ষণীয়ঃ ১ বছরের বেশি বয়সি বাচ্চাকেই এভাবে বানিয়ে দেবেন।

#3. খেজুরঃ (Dates)

কেন খাওয়াবেনঃ (Why Dates) - বাচ্চাদের জন্য খেজুর খুবই উপকারী। মিষ্টি এবং সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি খেজুরের অনেক পুষ্টিগুণও আছে। খেজুর ভিটামিন এবং মিনারেলস যেমন ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ। শীতকালে খেজুর শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। প্রস্তাবিত রেসিপি (Suggested Recipe)-  বাচ্চাদের খেজুর এমনিও খেতে দিতে পারেন বা স্মুদির সাথেও দিতে পারেন। লাড্ডুতে খেজুর দিন বা খেজুর সিরাপ বানিয়ে সেটা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করুন; বাচ্চারা আনন্দের সাথে খাবে। উপকরণঃ (Ingredients)
  • বীজ ছাড়ানো, কুচোনো খেজুর ১ কাপ
  • প্রয়োজনমতো জল
  • ১ চা- চামচ ভ্যানিলা
প্রণালীঃ (Method)
  • তলা ভারী হবে এমন পাত্রে খেজুর আর জল দিন। জলে যেন খেজুর ডুবে যায়।
  • এবার ভালো করে ফুটিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন।
  • ভ্যানিলা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে দিন।
  • ২০ মিনিট পর্যন্ত খেজুরগুলো জলে রেখে দিন যাতে নরম হয়ে যায়।
  • এবার জলটা ফেলে দিয়ে চামচের সাহায্যে খেজুরগুলো বের করে নিন।
  • খেজুরগুলো ব্লেন্ডারে দিয়ে একটা মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
  • এই পেস্টটা ছেঁকে নিন। খেজুর ডোবানো জল প্রয়োজনমতো দিন।
  • পেস্টটা ঘন না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসে জ্বাল দিন। ঠান্ডা হলে এই সিরাপ আরও ঘন হবে।
  • রেফ্রিজারেটরে  কাঁচের বোতলে রেখে দিন। ৩-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে।  

#4. কমলালেবু বা টক ফলঃ (Oranges and Citrus Fruits)

কেন খাওয়াবেনঃ (Why oranges)-কমলালেবু ভিটামিন সি এবং ফাইবারে ভরপুর। বাচ্চারা এটা খেতেও খুব পছন্দ করে। মরসুমি ফল হওয়ার কারণে কমলালেবু অ্যান্টিঅক্সিডেনটে পূর্ণ হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রস্তাবিত রেসিপি (Suggested Recipe)- আপনি যে কোনও জায়গায় কমলালেবু নিয়ে যেতে পারেন এবং বাচ্চা যখনই চায় তাকে খাওয়াতে পারেন। সকালবেলা কমলালেবুর রস খাওয়া খুবই উপকারী। উপকরণ (Ingredients)-
  • ৪টি কমলালেবু
  • এক চিমটে বিটনুন
প্রণালীঃ (Method)-
  • কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে জ্যুস করে নিন।
  • এক চিমটে বিটনুন মিশিয়ে বাচ্চাকে দিন।

#5. মিষ্টি আলুঃ (Sweet potatoes) 

কেন খাওয়াবেনঃ (Why sweet potatoes)- মিষ্টি আলু ভিটামিন এ এবং পটাসিয়ামের গুণে সমৃদ্ধ। বাচ্চাকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই-এর পরিবর্তে মিষ্টি আলু দেওয়া খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রস্তাবিত রেসিপি (Suggested Recipe)- মিষ্টি আলুর ভর্তা ম্যাকারনি বা মিষ্টি পুডিং তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন। মিষ্টি আলু বেক করেও আপনি বাচ্চাকে দিতে পারেন। উপকরণ (Ingredients)-
  • ৫টি মিষ্টি আলু, খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করা
  • তেল প্রয়োজনমতো
  • ১ টেবিল চামচ সিজনিং মিক্স
  • ১/২ চা- চামচ গোলমরিচ (ইচ্ছে হলে)
  • নুন আন্দাজমতো
প্রণালীঃ (Method)-
  • ২২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ওভেন গরম করে রাখুন
  • একটি বেকিং ট্রে-তে অল্প তেল লাগান।
  • একটা বড় পাত্রে মিষ্টি আলু আর তেল মিশিয়ে নিন।
  • সিজনিং, নুন ও মরিচ দিয়ে দিন।
  • বেকিং শিটে মিষ্টি আলুগুলো দিয়ে বাদামী এবং মুচমুচে না হওয়া পর্যন্ত বেক করুন, প্রায় ২০ মিনিট।
  • বাচ্চাকে দেওয়ার আগে ৫-১০ মিনিট ঠান্ডা হতে দিন।

#6. বেদানাঃ (Pomegranate)

কেন খাওয়াবেন ( Why pomegranate)- অ্যান্টিঅক্সিডেনটের অন্যতম উৎস এই বেদানা। বেদানার রস খেলে বাচ্চাদের কৃমি হওয়াও কমে যায়।    প্রস্তাবিত রেসিপি (Suggested Recipe:)- বেদানার রস নিজেই এতো মিষ্টি হয়, যে বাচ্চারা কেন, কেউই এটা খাবো না বলতে পারে না। আপনি বাচ্চার জন্য বেদানা আর শসা দিয়ে সালসাও বানিয়ে নিতে পারেন। উপকরণঃ (Ingredients)-
  • ১ কাপ বেদানা
  • ১/২ কাপ কুচোনো শসা।
  • ১/২ কাপ ছোট ছোট করে কাটা টম্যাটো
  • ২-৩টি তাজা পুদিনা পাতা
  • ২-৩টি ধনে পাতা
  • ১ চা- চামচ লেবুর রস
  • অলিভ অয়েল
  • নুন স্বাদমতো
প্রণালীঃ (Method)-
  • কুচোনো শসা, বেদানা, টম্যাটো,পুদিনা ও ধনে পাতা, নুন, লেবুর রস ও অলিভ অয়েল একসাথে মিশিয়ে নিন।
  • ভালো করে মিশে গেলে ঢাকা দিয়ে রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন। খাবার সময় বের করুন।

#7. আমলা (Amla)

কেন খাওয়াবেন (Why amla) - ভিটামিন সি-তে ভরপুর, আমলা শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেনটের জোগান দেয়। এর ফলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। প্রস্তাবিত রেসিপি (Suggested Recipe)- তাজা আমলার রস করে সামান্য নুন ও মশলা মিশিয়ে সুস্বাদু অথচ পুষ্টিকর পানীয় বানানো যায়। উপকরণঃ (Ingredients)-
  • ৩টি বড় আমলা
  • জল- ১.৫ কাপ
  • মধু- ২ চা-চামচ
প্রণালী:( Method)
  • আমলা ভালো করে ধুয়ে কুচিয়ে কেটে নিন। বীজ ফেলে দিন।
  • এক কাপ জল দিয়ে আমলাগুলো ব্লেন্ডারে পেস্ট বানিয়ে নিন।জ্যুসটা ছেঁকে
  • নিয়ে একটা বাটিতে রাখুন।
  • এবার মধু মিশিয়ে নিন।
  • প্রয়োজন হলে আরও জল মিশিয়ে দিন।

#8. বিট (Beetroot)

কেন খাওয়াবেন (Why Beetroot) - অ্যান্টিঅক্সিডেনট, ভিটামিন এ, বি, সি, পটাশিয়াম এবং ফোলেটস প্রচুর পরিমাণে থাকে এই বিটে। বাচ্চা মিষ্টি খেতে চাইলে, চিনি না দিয়ে বাচ্চাকে বিট খেতে দিন। প্রস্তাবিত রেসিপি (Suggested Recipe)- বিট দিয়ে স্যালাড বানান, জ্যুস বা রাইতা বানান। বাচ্চারা বিটের রাইতার রং খুব পছন্দ করে এবং খেতেও আগ্রহ দেখায়। উপকরণঃ (Ingredients)-
  • ২ টি বিট
  • ১ কাপ দই
  • ১/২ কাপ চিনি
  • বিট নুন
প্রণালী: (Method)
  • বিটগুলো ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন।
  • গ্রেট করে নিয়ে দইয়ের সাথে মিশিয়ে নিন।
  • চিনি ও নুন মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
শীতকালে বিশেষ কোন খাবার আপনি বাড়িতে বানাতে ভালবাসেন? এই রেসিপিগুলোর একটাও কি বানিয়ে দেখেছেন? কেমন লাগলো আপনার বাচ্চার? নীচে আমাদের জানান । একজন মা হয়ে অন্য মায়েদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান? মায়েদের কমিউনিটির একজন অংশীদার  হয়ে যান। এখানে ক্লিক করুন, আমরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।

null

null