সি সেকশন ডেলিভারি হতে চলেছে? জেনে রাখুন এগুলো

সি সেকশন ডেলিভারি হতে চলেছে? জেনে রাখুন এগুলো

আপনি কি হবু মা? ডেলিভারির সময় কি প্রায় এসেই গেল! নর্মাল ডেলিভারির যন্ত্রণা এড়াতে সি সেকশন ডেলিভারিই করাবেন ভাবছেন, তাই তো? এদিকে এটাও ভেবে অস্থির হচ্ছেন যে ডেলিভারির পর সুস্থ হতে অনেকটা দিন লেগে যাবে? ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। সি সেকশন ডেলিভারির আগে জেনে রাখুন এগুলো। পুরোটাই খুব সহজে হয়ে যাবে।
অস্ত্রোপচারের সময় ১৫ সেন্টিমিটার মতো জায়গা কাটা হয় মায়ের তলপেটে। পুরোটা শেষ হতে সময় লাগে ৪৫ মিনিটের মতো। পুরো পক্রিয়াটি কিছু পর্যায়ের মধ্য়ে দিয়ে হয়, আর সেই পর্যায়গুলো নিয়েই এবার আলোচনা করব আমরা।

সিজারিয়ান-সেকশন সম্পর্কে আপনার যা যা জানা দরকার (All that you need to know about C-section)

সিজারিয়ানের আগে কী কী হয় (What happens before Caesarean):

সবার আগে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য আপনাকে মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যেমন-

#1. আপনাকে হাসপাতাল থেকে স্টেরিলাইসজড গাউন পরানো হবে

#2. আপনাকে আপনার সব গয়না, নেলপলিস, কনট্যাক্ট লেন্স বা চশমা বা মেকআপ সরাতে হবে। এটি অপারেশনের সময় আপনার ত্বকের রং যাচাই
করতে সাহায্য করবে

#3. রক্তে আয়রনের পরিমাণ পরীক্ষা করার জন্য রক্তের নমুনা নেওয়া হবে। যদি আপনার রক্তে অনিয়মিত কিছু থাকে এবং আপনার রক্তের চাপ বেশি হয় তা হলে রক্তচাপ কমানোর প্রয়োজন হবে

অস্ত্রোপচার শুরুর সময় (Surgery time):

#1. আপনার হাতের শিরাতে একটি ড্রিপ ঢোকানো হয় যার মাধ্যমে শরীরে স্যালাইন দেওয়া হয়

#2. আপনার মেরুদণ্ডে এপিড্য়ুরাল অ্য়ানেস্থেশিয়া করা হয়, যার ফলে আপনার শরীরের নীচের অংশটি অবস হয়ে যায়। এটি আপনার ও আপনার শিশুর জন্য নিরাপদ।

#3. আপনার মূত্রনালী দ্বারা একটি পাতলা টিউব (ক্যাথার) মূত্রাশয়ের মধ্যে ঢোকানো হবে। এটি আপনার মূত্রাশয়টি পরিষ্কার করে।

#4. পেটের নীচের অংশ থেকে লোম পরিষ্কার করা হয়। তারপর জায়গাটি অ্য়ান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর জায়গাটি একটি বিশেষ কাপড় দিয়ে ঢাকা হয়। কাপড়টি এমনভাবে কাটা থাকে যাতে অপারেশনের জায়গাটা শুধু খোলা থাকবে।

#5. আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত আছে কি না সেটা দেখার জন্য আপনার হাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র রাখা হয়। বিশেষজ্ঞ আপনার হৃদস্পন্দনের ওপরেও নজর রাখবে।

#6. আপনার বুকে ইলেকট্রোড লাগানো হয় যার সাহায্যে হৃদস্পন্দন নিরীক্ষণ হয়।

#7. আঙুলে পালস মনিটর পরানো হয় যার সাহায্যে পালস দেখা হয়।

কী কী দেওয়া হয় (Precautions)

#1. সংক্রমণ দূরে রাখার জন্য অ্য়ান্টিবায়োটিক ইনজেকশন।

#2. বমি বমি ভাব প্রতিরোধ করার জন্য ওষুধ ও পরে ব্যথা রোধক আরামদায়ক ওষুধ।

#3. যদি কোনও এমারজেন্সি হয় তবে অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হবে।

সিজারিয়ানের প্রক্রিয়া (Caesarean process)

একবার আপনার শরীরের নীচের অংশ অবস হয়ে গেলে, ডাক্তার আপনার তলপেটের অংশ সামান্য করে কেটে ফেলেন, পিউবিক হাড়ের ওপরের চামড়ার মধ্যে দুটি আঙুলের প্রস্থ অনুযায়ী।

পেশী পৃষ্ঠতল খোলা হয় যাতে গর্ভাশয় অবধি পৌঁছনো যায়। জরায়ুর নীচের অংশটি দেখার জন্য মূত্রাশয়টি সরানো হয়।
এরপরে, জরায়ুর নীচের অংশ ছোট করে কাটা হয় কাঁচি বা আঙুলের সাহায্যে, ডাক্তার এই কাটা অংশটি সামান্য বড়ও করতে পারে। আজকাল কেবল জরায়ুর নীচের অংশ খোলা হয় এই কারণে এই ধরনের অস্ত্রোপচারকে লোওয়ার সেগমেন্ট সিজারিয়ান বিভাগ (LSCS) বলা হয়।

শিশু যে জলের থলেতে থাকে এবার সেটি খোলা হয় এবং চিকিৎসক তাকে বের করে আনেন মায়ের পেট থেকে। শিশুটিকে বের করার জন্য মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। শিশুটিকে গর্ভাশয় থেকে বের করে আনার পর বাচ্চা এবং মায়ের মধ্যে যুক্ত থাকা নাড়িটি কেটে দেন নার্স। এরপরে সেলাই করার পালা। পেশী আর ত্বকের স্তর ট্যুরিস, স্ট্যাপল বা থ্রেড দিয়েসেলাই করা হয়। সম্ভবত সংক্রমণ প্রতিরোধেই ডাবল সেলাই করা হয়। সবশেষে, ত্বকের ক্ষত স্টেপলস বা স্টিচ-এর মাধ্যমে বন্ধ করা হয়।
এইসব ঠিক ভাবে হয়ে গেলে আপনাকে রিকভারি রুম-এ পাঠানো হয় আর আপনার শিশুকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাচ্চাদের ঘরে।
সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে কিছু ব্যথা এবং অস্বস্তি হয়ে থাকে। অ্যানাসথেসিয়ার প্রভাব শেষ হলে আপনি অপারেশনের জায়গায় ব্যথা বোধ করবেন। যার জন্য ডাক্তার আপনাকেও ওষুধ দেবেন।
সিজারিয়ানের সুবিধা

মায়ের সুবিধা (Benefits of C-section for the mother)

#1.যেহেতু এই অস্ত্রোপচারটা পরিকল্পনামাফিক করা হয়, সেহেতু আপনি অনেক সময়ই দিন বা সময় ডিসাইড করতে পারেন।

#2. সি-সেকশনের ফলে মা লেবার এর ব্যথা থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।

#3. শিশু জন্মানোর পরে মায়ের সেক্সসুয়াল প্রবলেম হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

বাচ্চার সুবিধা (Benefits of C-Section delivery for the child)

#1. মায়ের থেকে কোনও রকম সংক্রমণের সম্ভাবনা বাচ্চার মধ্যে থাকে না।

#2. জন্মানোর পদ্ধতির সময় কোনও ভাবে শিশুটির আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
সিজারিয়ানের অসুবিধা

সুবিধা থাকার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও সিজারিয়ান অপারেশনে থাকে।(Disadvantages of C-section)

মায়ের অসুবিধা (For mom)

#1.অ্যানাসথিসিয়ার জন্য কিছু জটিলতা এসে যায়।
#3. রক্তক্ষরণের পরিমাণ হয় অনেকটাই।
#4. সেরে উঠতে অনেকটা সময় লাগে এবং একটি রুটিন চেক আপের প্রয়োজন হয়।
#5. সংক্রমণের একটা সম্ভাবনা থাকে।
#6. ব্রেস্টফিডিং প্রসেসেও দেরি হয়।

বাচ্চার অসুবিধা (For your kid)

#1.এটা যেহেতু স্বাভাবিক জন্ম না, ডাক্তার আর বাবা মায়ের প্ল্যান মতো হয়, তাই শিশুটি নিজে হয়তো বেরনোর জন্য তখনও তৈরি থাকে না।

#2. কিছু কিছু শ্বাসকষ্টজনিত সমস্য়া হয়ে থাকে শিশুটির।

সবশেষে বলা যায়; সুবিধা-অসুবিধা থাকলেও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই এই পদ্ধতিতে এগোনো উচিত যাতে মা এবং বাচ্চা দু’জনেই অপারেশনের সময় এবং পরে সুরক্ষিত থাকতে পারে।

একজন মা হয়ে অন্য মায়েদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান? মায়েদের কমিউনিটির একজন অংশীদার  হয়ে যান। এখানে ক্লিক করুন, আমরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।

null

null