মানুষ আর না মানুষ- এক অটুট বন্ধুত্ব!

মানুষ আর না মানুষ- এক অটুট বন্ধুত্ব!

বাড়িতে আপনার খুদে সদস্যটির পায়ে পায়ে আরও একজন চার পেয়ে কেউ ঘুরে বেড়াতে চায় বুঝি? কুতকুতে নিষ্পাপ দুটো চোখ দিয়ে চুপচাপ দেখে, কীভাবে বাচ্চাকে আপনি আদর করছেন, ঘুম পাড়াচ্ছেন বা খাবার খাওয়াচ্ছেন। তারও হয়তো তখন খুব ইচ্ছে করে আপনার কাছে আদর পেতে, লোমশ নরম গায়ে একটু স্নেহের সুড়সুড়ি খেতে। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, আপনার বাড়ির পোষ্যটিকেই নিয়ে কথা বলছি। কে না জানে, বাড়িতে কুকুরের মতো একটি পোষ্য থাকা মানে সে আপনারই আর একটি সন্তান। নিষ্পাপ, অবলা প্রাণীটার চোখে সমর্পণ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছাড়া কিছু দেখতে পেয়েছেন আপনি? দেখুন না, আপনার বাড়ির নতুন সদস্যটিও তার অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠবে কয়েক দিনেই। আর যদি আপনার খুদে একটু বড় হয়ে গেছে, তার জন্য খেলার সাথী হিসেবে একটি কুকুর পোষার কথা ভাবছেন, তা হলে তাকে আনতে আর দেরি করবেন না।পরিস্থিতি যাই হোক, বাচ্চা ও পোষ্যের সম্পর্কের ভিত মজবুত করে দিতে হবে আপনাকেই, জানেন তো কী কী বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে? Relationship of love between your baby and your pet in Bengali.

কীভাবে পরিচয় করাবেন দুইজনের? (How will you introduce them to each other?)

  • আপনার বাড়িতে যদি আগে থেকেই কুকুর থাকে, তা হলে তার সাথে আপনার সদ্যজাত পুঁচকেটির পরিচয় করানোর ক্ষেত্রে কিছু কথা মাথায় রাখুন। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, বাচ্চাকে বাড়িতে নিয়ে আসার আগে বাচ্চার গন্ধের সাথে বাড়ির পোষ্যটিকে পরিচিত হতে দিন। বাচ্চার গায়ে জড়ানো চাদর , জামা বা এমনকি ওর ডায়াপারও এক্ষেত্রে কার্যকরী হবে। এই সমস্ত জিনিস কুকুরকে শুঁকতে দিন। এভাবে ও আগে থেকেই আপনার বাচ্চার গন্ধ চিনে যাবে।
  • বাচ্চাকে প্রথম বাড়িতে নিয়ে আসার সময় বাচ্চা যেন মায়ের কোলে না থাকে। বাড়ি থেকে কিছুদিন দূরে থাকার কারণে, মায়ের সাথে দেখা করার জন্য কুকুর অস্থির হয়ে থাকে ও মাকে দেখলে তার স্বাভাবিক ভঙ্গীতে লাফানো ঝাঁপানো শুরু করতে পারে। বাচ্চা মায়ের কোলে থাকলে বাচ্চার আঘাত লেগে যেতে পারে।
  • বাড়ির নতুন সদস্যের সাথে যখন কুকুরের আলাপ করিয়ে দেবেন, খেয়াল রাখুন সে যেন বাঁধা থাকে এবং কেউ তার গলার চেন শক্ত করে ধরে থাকে। বাচ্চাকে কাপড়ে জড়িয়ে ভালো করে তার মাথায়, গায়ে নিজের হাত দিয়ে রাখুন। এতে আপনার কুকুর বুঝবে, যে বাচ্চা আপনার অত্যন্ত প্রিয় কেউ এবং আপনি ওকে আগলে রাখতে চাইছেন।
  • আপনি কুকুরটির সাথে যেভাবে আদর করে কথা বলে অভ্যস্ত, তার সাথে সেভাবেই কথা বলুন ও মাঝে মাঝে আদর করুন। কখনও বাচ্চাকে মেঝেতে শুইয়ে দেবেন না বা উঁচু করে তুলে ধরবেন না। এতে কুকুর বাচ্চাকে খেলার জিনিস ভেবে ভুল করতে পারে এবং ঝাঁপিয়ে ধরার চেষ্টা করতে পারে।
  • কিছু সময় পরে যদি দেখেন , আপনার আদরের পোষ্য কোনও অদ্ভুত বা খারাপ ব্যবহার করছে না, তা হলে তাকে বাচ্চাকে দেখতে দিন এবং নিরাপদ দূরত্বে থেকে বাচ্চার গায়ের গন্ধ শুঁকতে দিন।
  • পোষ্য অন্যরকম কিছু করলে বা বাচ্চাকে জিভ দিয়ে চাটতে গেলে সেটার অনুমতি দেবেন না। প্রথম ৩-৪ সপ্তাহ বাচ্চার আশেপাশে কুকুরকে আনলে অবশ্যই তাকে বেঁধে আনুন এবং বাচ্চার প্রতি তার ব্যবহার লক্ষ্য করুন। বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছেন, স্নান করাচ্ছেন বা ঘুম পাড়াচ্ছেন, এসব পোষ্যটিকে দেখতে দিন।
  • পরিস্থিতি যদি অন্যরকম হয়, অর্থাৎ বাচ্চা কিছুটা বড় হয়ে যাওয়ার পরে আপনি বাড়িতে কুকুর পোষা মনস্থির করেন, সেক্ষেত্রে পরিচয় পর্বটা অনেক সহজ হয়। কারণ, তখন কুকুর আপনাদের সবার সাথে একই সময় পরিচিত হয়।

বাড়িতে কুকুর থাকলে বাচ্চার যা উপকার হয় (Benefits of having a dog)

  • বন্ধুত্বের প্রথম হাতেখড়ি হবে পোষ্যটির সাথেই।
  • বাচ্চা দায়িত্বশীল হবে এবং যত্নবান হবে।
  • হিংসে করতে শিখবে না।
  • কুকুরের সাথে খেলা করলে মানুষের মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন নামের হরমোন নিঃসরণ হয়, যা মন ভালো রাখে ও উদ্বেগ কম করে।
  • অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বাড়িতে পোষ্য থাকলে শিশুদের হাঁপানির ঝুঁকি কমে।
  • পোষ্যটির সাথে নিয়মিত খেলা করার জন্য বাচ্চার স্বাস্থ্য সুন্দর হবে।

যে সব বিষয়ে অবশ্যই সাবধান থাকবেন (Be aware of these)

  • অনেক সময় বাড়িতে নতুন সদস্য এলে এবং সে বাড়ির সবার মনোযোগ নিয়ে নিলে, মানুষের সন্তানের মতোই আপনার পোষ্যটিরও হিংসে হয় এবং সে বাচ্চাটিকে ভালো চোখে দেখে না। প্রথম প্রথম বাচ্চার সামনেই পোষ্যকেও সমান ভাবে আদর করুন। ও যেন দেখতে পায়, বাচ্চা এবং ও, দু’জনেই আপনার কাছে সমান প্রিয়।
  • অনেক সময় অত্যধিক উৎসাহের কারণে কুকুর আপনার বাচ্চাকে খামচে দিতে পারে । তাই বাচ্চার আশেপাশে কুকুর নিয়ে এলে প্রথম কয়েক সপ্তাহ খুব সাবধান থাকুন এবং চেন বেঁধে রাখুন।
  • আপনার বাচ্চার ডাক্তারকে আপনার বাড়িতে থাকা পোষ্যর ব্যাপারে জানিয়ে রাখুন এবং তার থেকে কোনও ভাবে বাচ্চার শারীরিক কোনও অসুবিধা হতে পারে কি না জেনে নিন।সাধারণত কুকুরের থেকে মানুষের বাচ্চার শারীরিক ক্ষতির কোনও ভয় থাকে না।
  • অধিকাংশ কুকুরের প্রজাতি বাচ্চাদের খুবই ভালোবাসে এবং তাদের সাথে খেলতেও পছন্দ করে। কিন্তু, সংখ্যায় কম হলেও, এরকমও কয়েকটি প্রজাতি আছে, যারা বাচ্চা একেবারে ভালোবাসে না বা তাদের সঙ্গ পছন্দ করে না; আপনার পোষ্য সেই প্রজাতির মধ্যে পড়ে কি না সেটা খেয়াল রাখুন।
একজন মা হয়ে অন্য মায়েদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান? মায়েদের কমিউনিটির একজন অংশীদার  হয়ে যান। এখানে ক্লিক করুন, আমরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।

null

null